রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না হলেও গণভোট সম্ভব : ড. বদিউল আলম।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না হলেও গণভোট আয়োজনের সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয়।

শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) মিলনায়তনে ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ আয়োজিত ‘আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হলেই গণতন্ত্র সুরক্ষিত হবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে তিনি এ কথা বলেন।

ড. বদিউল আলম বলেন, “আমরা আশা করি, রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসাথে হবে কিনা— সে বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারকে সুপারিশ জানাবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারই নেবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে।”

তিনি আরও বলেন, “গণভোটে জনগণের অংশগ্রহণ ও সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করতে সব শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। শেখ হাসিনা সরকার একটি স্বৈরাচারী কাঠামো রেখে গেছে— সেই কাঠামো জুলাই সনদের মাধ্যমে সংস্কার করতে হবে।”

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বলেন, “জুলাই সনদে স্বাক্ষরের পর যদি ভবিষ্যৎ সরকার সেটি বাস্তবায়ন না করে, তবে তাদের পরিণতিও হবে শেখ হাসিনা সরকারের মতোই। ক্ষমতার বদল হলেও দুর্নীতির বদল যেন না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। গণতন্ত্র রক্ষায় শুধু সুষ্ঠু নির্বাচনই নয়, নির্বাচিত সরকারকে আইনের শাসন ও রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।”

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “নির্বাচন ও রাজনৈতিক দলগুলো থেকে দুর্বৃত্তায়ন দূর করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে আরও স্বাধীন ও কার্যকর করা জরুরি।”

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, “আগামী ১৫ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বন্দ্বে যদি এতে বাধা তৈরি হয়, তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। গত ১৬ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যায়, অত্যাচার, গুম-খুনসহ জুলাই বিপ্লবের শহীদদের হত্যার বিচার ব্যাহত হবে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে এবং ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনরায় মাথাচাড়া দিতে পারে। গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধারে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।”

ছায়া সংসদে তেজগাঁও কলেজ ও প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করেন।