যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নতুন নিষেধাজ্ঞা: তালিকায় যুক্ত হতে পারে আরও বহু দেশ।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৮ মাস আগে
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা: তালিকায় যোগ হচ্ছে আরও বহু দেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

মার্কিন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আরও অনেক দেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নোম জানিয়েছেন, এই তালিকায় ৩০টিরও বেশি দেশ থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের দ্য ইনগ্রাহাম অ্যাঙ্গেল–এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।এ ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে— ট্রাম্প প্রশাসন তাদের অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার পথে হাঁটছে। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের কাছে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর হামলা ও মৃত্যুর ঘটনার পর নীতিমালায় বড় পরিবর্তন আনার আলোচনা চলছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, সাক্ষাৎকারে নোমকে প্রশ্ন করা হয়— ট্রাম্প প্রশাসন কি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকা ৩২ দেশে বাড়াতে যাচ্ছে? জবাবে নোম বলেন, “আমি সঠিক সংখ্যা বলছি না, তবে তালিকায় ৩০টির বেশি দেশ থাকবে। প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন দেশের বিষয় নিয়ে এখনো পর্যালোচনা করছেন।”এর আগে গত জুনে ট্রাম্প ১২ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন এবং আরও সাত দেশের ওপর ভ্রমণ বিধিনিষেধ দেন। তার দাবি ছিল— বিদেশি সন্ত্রাসী ও অন্যান্য নিরাপত্তা হুমকি ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা পর্যটক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সব ধরনের ভ্রমণকারীর জন্য প্রযোজ্য।নোম এ সাক্ষাৎকারে আরও বলেন,“কোনো দেশের সরকার অস্থিতিশীল হলে, নাগরিকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে বা আমাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা না করলে— সে দেশ থেকে মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

এর আগে প্রকাশিত স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি অভ্যন্তরীণ নথির তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছিল— আরও ৩৬টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ন্যাশনাল গার্ড সদস্য হত্যাকাণ্ডের পর এই উদ্যোগ বর্তমান অভিবাসন নীতির বড় সম্প্রসারণ বলে মনে করা হচ্ছে।তদন্তে জানা গেছে— হামলাকারী ছিলেন এক আফগান নাগরিক, যিনি ২০২১ সালে পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে— এই কর্মসূচিতে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা হয়নি।হামলার কিছুদিন পরই ট্রাম্প ঘোষণা দেন— “তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।” তবে কোন কোন দেশকে এই তালিকায় রাখা হবে, তা পরিষ্কার করেননি তিনি।হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে— বাইডেন প্রশাসনের সময় অনুমোদন পাওয়া বিভিন্ন দেশের আশ্রয়প্রার্থীদের দেওয়া গ্রিন কার্ড–সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার নির্দেশও দিয়েছেন ট্রাম্প।

দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দিচ্ছেন। বড় বড় শহরে ফেডারেল এজেন্ট পাঠানো থেকে শুরু করে মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে।এতদিন ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় বেশি গুরুত্ব দিলেও— এখন বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায়ও বড় পরিবর্তন আনার সবচেয়ে স্পষ্ট সংকেত মিলছে।—আরও সহজ করতে চাইলে বা ফেসবুক/ইউটিউব–উপযোগী ফরম্যাটে চাইলে জানাতে পারেন।