মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধী:
ভোলার মনপুরা থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের প্রধান বাহন লঞ্চ। তবে এই নৌপথের যাত্রায় পদে পদে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে তাসরিফ-২ সহ বেশ কয়েকটি লঞ্চই এই রুটের প্রধান ভরসা।তবে এই লঞ্চে প্রতিনিয়তই যাত্রীদের ভোগান্তির চিত্র উঠে আসছে। সাধারণ যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ডেকে অবৈধভাবে সিট তৈরি করে বাড়তি টাকা আদায়ের এক চিত্র সামনে এসেছে, যা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, মনপুরা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী তাসরিফ-২ লঞ্চের ডেকের মাঝখানে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলের জায়গা দখল করে প্রায় ১৫টি makeshift (অস্থায়ী) সিট বসানো হয়েছে। লঞ্চের স্টাফরা প্রতিটি সিট ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। অথচ এই জায়গাটি ডেকের টিকিট কাটা সাধারণ যাত্রীদের বসার জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা।এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সরকার নির্ধারিত ভাড়া দিয়ে টিকিট কেটে লঞ্চে উঠি। কিন্তু লঞ্চে উঠে দেখি বসার মতো কোনো জায়গা নেই। শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। অথচ লঞ্চের স্টাফরা ডেকের মাঝখানে বড় একটা অংশ দখল করে সিট বসিয়ে ব্যবসা করছে। প্রতিটি সিট ১০০ টাকায় বিক্রি করছে তারা। আমরা টিকিট কেটেও যদি দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য হই, আর আমাদের জায়গায় তারা ব্যবসা করে, তাহলে আমাদের যাওয়ার জায়গা কোথায়?”মনপুরা একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়ায় এখানকার মানুষেরা জরুরি প্রয়োজনে, চিকিৎসা বা অন্যান্য কাজে ঢাকার উপর নির্ভরশীল। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রায়ই লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে যখন লঞ্চ ছাড়ে, তখন যাত্রীদের চাপ অনেক বেড়ে যায়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই এক শ্রেণীর অসাধু লঞ্চ কর্মচারী এই অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।ভুক্তভোগীরা আরও জানান, লঞ্চের ডেকে এভাবে জায়গা দখল করে সিট বসানোর কারণে শুধু বসার সংকটই নয়, চলাচলেও মারাত্মক অসুবিধা হয়। জরুরি প্রয়োজনে বা শৌচাগারে যাওয়ার জন্য যাত্রীদের ভিড় ঠেলে এগোনো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কেউ এর প্রতিবাদ করলে লঞ্চ স্টাফদের দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়।এ বিষয়ে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। তবে যাত্রীদের দাবি, এই অবৈধ বাণিজ্য লঞ্চ কর্তৃপক্ষের অগোচরে হচ্ছে, নাকি তাদের সম্মতিতে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।সাধারণ যাত্রীরা এই হয়রানি বন্ধে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, এই রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতে নিয়মিত তদারকি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো যাত্রীকে এমন হয়রানির শিকার হতে না হয় এবং নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত হয়।
