সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের কুলঞ্জ গ্রামের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গডফাদার আছাদ চৌধুরী ও মাহবুব চৌধুরী’র তান্ডবে অতিষ্ঠ কুলঞ্জ গ্রামবাসী। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আছাদ চৌধুরী ও মাহবুব চৌধুরী’ দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছেন। পান থেকে চুন খসলেই শুরু হয় তাদের নির্যাতন। বিগত পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এলাকার সকল অপকর্মেই ছিলো তাদের কালো হাত। তাদের নিজস্ব বাহীনি দ্বারা এলাকার নিরীহ মানুষের উপর চলতো অমানবিক নির্যাতন। আওয়ামীলীগের দিরাই শাল্লা’র এমপি জয়া সেনগুপ্তার আশীর্বাদ পূষ্ট ছিলেন আছাদ ও মাহবুব।
কুলঞ্জ গ্রামের যত ধরনের গর্হিত কাজ সংঘটিত হয় তাদের মাধ্যমেই ঘটে এ সকল বন্ধুক যুদ্ব। এ বৎসরে কুলঞ্জ গ্রামে তিন দফা বন্ধুক যুদ্ব সংঘটিত হয়েছে। প্রতিটি যুদ্বেই নেতৃত্ব দিয়েছেন আছাদ মেম্বার ও মাহবুব মেম্বার। গত ২৪-শে অক্টোবর রোজ শুক্রবার বাদ জুম্মা কুলঞ্জ গ্রামে বন্ধুক যুদ্বে ১১জন আহত হয়েছেন। এ যুদ্বের প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহবুব মেম্বার ও আছাদ মেম্বার। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এলাকার সালিস ব্যাক্তিত্ব আলাউর রহমান আলা ও তার ভাই সাবেক ইউপি সদস্য এলাইচ মিয়া’ জরুরী কাজ শেষে দিরাই থেকে বাড়ী ফেরা’র পথে রাস্তায় একা পেয়ে দু ভাইয়ের উপর আছাদ ও মাহবুব বাহীনির লোকজন পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে বন্দুক দিয়ে গুলি শুরু করেন। আলা ও এলাইছ মেম্বারের লোকজন তাদেরকে রক্ষা করতে আসলে মাহবুব ও আছাদের লোকজন তাদেরকে উদ্দেশ্য করে ফের গুলি চালায়।
এতে এলাইচ মেম্বারের পক্ষে ১১জন গুলি খেয়ে ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে পরেন। পরে ঘটনার মুড় ঘুরাতে শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে আছাদ ও মাহবুব নিজের দু লোকের উপর নিজেরা গুলি করেন। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। আছাদ ও মাহবুবের বিরুদ্ধে প্রাণের ভয়ে মুখ খুলতে কেউ রাজি নন। তারা যদি সাংবাদিকদের কাছে কিছু বলেন, রাতে আছাদ ও মাহবুবের লোকেরা তুলে নিয়ে নির্যাতন করতে পারেন৷ কুলঞ্জ গ্রামের অসহায় কয়েকটি পরিবার জানান, বন্ধুক যুদ্ব চলাকালে তাদের বসত ঘর ও ফ্রীজ বিদ্যুতের মিটার সহ আধা বড়ি স্বর্ন ও দেড় লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান আছাদ চৌধুরী’র লালিত গুন্ডা নাইম চৌধুরী ও আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সদস্য রুস্তুম মিয়া। এই অসহায় তিনটি পরিবারের অবস্থা একেবারেই নাজুক। খোলা আকাশের নিচে শিশুদের নিয়ে অবস্থান করছেন তারা। তাদের এই ক্ষতির কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পরেন এই পরিবারের এক মহিলা সদস্যা । তিনি বলেন, আমাদের এলাকার আছাদ ও মাহবুব চৌধুরী’র লোকজনের কারণে আমরা অতিষ্ঠ। তারা নিজের অধিপত্যে বিস্তার করতে গিয়ে আলা ও এলাইচ মেম্বারের লোকজনের উপর সব সময় লেগেই থাকেন।
এলাকায় যত ধরণের অনিয়ম ও মারামারি হয় সব কিছুতেই আছাদ ও মাহবুবের নেতৃত্বে হয়। এলাইচ মেম্বার তাদের অন্যায় অসংঙ্গতি বিরুদ্ধে কথা বললেই তারা বন্ধুক হাতে নিয়ে যুদ্বে নেমে পড়েন। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, কেডিও নামের একটি সংস্থার নাম দিয়ে আছাদ ও মাহবুব মেম্বার রাস্তায় মাটি কাটানোর কথা বলে নামকাওয়াস্তে মাটি ফেলে নিজের পকেট ভারি করতে মরিয়া উঠেন। এলাইচ মেম্বার ও আলাউর রহমান আলা প্রতিবাদ করতে গেলে বাধে সংঘাত। বিগত ছয় থেকে সাত মাস আগে এলাইচ মেম্বারের লোকজন ও আছাদ -মাহবুবের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
পরে এলাকার সালিস ব্যাক্তিত্বদের নিয়ে সাবেক এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র ভাইয়ের বাংলোতে বিচার কার্য অনুষ্ঠিত হয়। এলাকার সালিশদের বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে মাহবুব ও আছাদ বাহীনি এলাইচ মেম্বারের লোকজনের উপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করেন৷ এতে এলাইচ মেম্বার লোকজন গুরুতর আহত হয়ে পড়েন। উল্লেখ গত ২৪ -শে অক্টোবর রোজ শুক্রবার দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের কুলঞ্জ গ্রামে বন্ধুক যুদ্ব সংঘটিত হয়। এতে এলাইচ মেম্বারের পক্ষে ১১জন গুরুত্ব আহত হয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। আছাদ মেম্বারের পক্ষে নাইম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের উপর যে অভিযোগ তুলা হয়েছে সম্পুর্ন মিথ্যা বানোয়াট । আছাদ ও মাহবুব এলাকার ভালো লোক হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত ।
এব্যাপারে দিরাই থানা’র অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
