টাঙ্গাইলের শাহিন কোচিং সেন্টারের মালিক মাসুদুল আমিন (শাহীন) ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দখলদারিত্বের অভিযোগ!

লেখক: ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

ডেস্ক রিপোর্টঃ

জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে স্বাক্ষর সৃজন করে সম্পত্তি দখল, ভবন মালিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার, ০৪/১০/২০২৫ ইং তারিখে ঢাকা ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।টাঙ্গাইলের শাহীন কোচিং সেন্টারের মালিক মাছুদুল আমীন (শাহীন)-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন এ.এস.এম নোমান আলম।ঢাকা ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন মিলনায়তন, ঢাকা: জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে স্বাক্ষর ও চুক্তিপত্র সৃজন করে জোরপূর্বক ঢাকার কুড়িলে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক ভবনের গাড়ির শোরুম (নীচ তলা) সহ বেসমেন্ট (Basement) দখলের প্রতিবাদে এবং ভবন মালিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও প্রাণনাশের হুমকির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভবন মালিকের স্বামী এ.এস.এম নোমান আলম ।

শনিবার, ০৪/১০/২০২৫ ইং তারিখে ঢাকা ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।অভিযোগ ও মামলার বিবরণ:সংবাদ সম্মেলনে এ.এস.এম নোমান আলম জানান, তার স্ত্রী কামরুন নাহার (ডিপুটি ডিরেক্টর জেনারেল, আনসার ও ভিডিপি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে কর্মরত) ৯৬/৩-ক, প্রগতি সারণী, কুড়িল, ভাটারা থানার হোল্ডিংয়ের একটি চারতলা বাণিজ্যিক ভবনের ওয়ারিশ সূত্রে মালিক । এই ভবনের ২৫০০ বর্গফুটের নীচ তলাটি গাড়ির শোরুম হিসেবে ব্যবহারের জন্য ০১/০১/২০২১ ইং তারিখে ‘রয়েল সিলেকশন’-এর স্বত্ত্বাধিকারী রশিদ আহমেদ জুয়েলের সাথে পাঁচ বছর মেয়াদী চুক্তি হয় ।

পরবর্তীতে তাদের অজান্তে, মোঃ মাছুদুল আমীন (শাহীন), যিনি টাঙ্গাইলের শাহীন কোচিং সেন্টারের মালিক , জুয়েলের সাথে ব্যবসা শুরু করেন । মাছুদুল আমীন এরপর কামরুন নাহারের স্বাক্ষর জাল করে একটি ভূয়া ভাড়াটিয়া চুক্তিপত্র সৃজন করেন , যা হস্তরেখা বিশারদ ও PBI তদন্তে প্রমাণিত ।• জোরপূর্বক দখল: মাছুদুল আমীন (শাহীন) ২১/০৪/২৩ ইং তারিখে চুক্তিবদ্ধ ভাড়াটিয়া রশিদ আহমেদ জুয়েলকে জোর করে বের করে দিয়ে শোরুমটি দখল করেন ।

একই দিনে রাত ১:৪৫ ঘটিকায় ভবনের বেসমেন্টের তালা কেটে ২টি ফ্লোর অবৈধভাবে দখল করে নেন ।• নিষেধাজ্ঞা মামলা খারিজ: অবৈধ দখলের পর মাছুদুল আমীন ০২/০৫/২৩ ইং তারিখে কামরুন নাহারকে বিবাদী করে বিজ্ঞ ২য় সহকারী জজ আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা নং- ২৮৩/২৩ দায়ের করলে আদালত ০৮/০৪/২০২৪ ইং তারিখে মামলাটি খারিজ করে দেন ।• ভাড়া মোকদ্দমা না-মঞ্জুর: ২৯/০৫/২৩ ইং তারিখে মাছুদুল আমীন একই আদালতে বাড়ী ভাড়া মোকদ্দমা নং- ১৭/২৩ দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত ২৬/০৮/২৫ ইং তারিখে মামলাটি দো-তরফা সূত্রে না-মঞ্জুর করেন ।• জাল-জালিয়াতির মামলা বিচারাধীন: কামরুন নাহার কর্তৃক ৩১/০৫/২০২৩ ইং তারিখে মাছুদুল আমীনের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় (৪০৬/৪১৭/৪১৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯/৩৪) সি.আর মামলা নং- ২৮৭/২৩ দায়ের করা হয় ।

আদালতের আদেশে PBI তদন্ত শেষে মাছুদুল আমীন (শাহীন) তার অপরাধের সহযোগীদের (তানিম,সাকিব, গোলাপ) তিনজনের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতির প্রমাণসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় এবং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন ।• হাইকোর্টের আদেশ অমান্য: অবৈধভাবে বেসমেন্ট দখল করে গাড়ি রাখার ঘটনায় কামরুন নাহার মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন নং- ২২৮৫/২০২৪ দায়ের করেন । হাইকোর্ট বিভাগ ১২/০৬/২০২৪ ইং তারিখে আদেশ প্রাপ্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বেসমেন্টের গেট আন-লক করার নির্দেশ দিলেও , মাছুদুল আমীন সেই আদেশ অমান্য করে এখনও বেসমেন্ট জোরপূর্বক দখল করে আছেন ।• মিথ্যা মামলায় নির্দোষ প্রমাণ: মাছুদুল আমীন কর্তৃক কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে দায়ের করা সি.আর মামলা নং- ২৭৬/২৩ এর তদন্ত শেষে CID ঢাকা (২১/০৫/২০২৪ ইং) এবং D.B ঢাকা (২৩/১২/২০২৪ ইং) কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ।

হয়রানির উদ্দেশ্যে নতুন মামলা: এ.এস.এম নোমান আলম অভিযোগ করেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে মাছুদুল আমীন ০১/০৯/২৫ ইং তারিখে বিজ্ঞ সি.এম.এম আদালতে একটি আরজি দাখিল করেন, যা বিজ্ঞ আদালত FIR করার নির্দেশ দিয়েছেন । এই ঘটনার পর থেকে মাছুদুল আমীন ও তার লোকজন বিভিন্ন মাধ্যমে নোমান আলম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছেন ।অন্যান্য প্রতারণার অভিযোগ:সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মোঃ মাছুদুল আমীনের প্রতারণার কর্মকাণ্ড শুধু তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় । উত্তরা ০৫ ও ১১ নং সেক্টরে বাড়ি নির্মাণ করে ঠিকাদার মোঃ আরজ আলীর ৩৬,৯৬,০৭৬/= টাকা আত্মসাৎ করলে তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ সি.এম.এম আদালতে সি.আর মামলা ৮৮৩/২০ দায়ের করা হয় । এই মামলায় উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ মাছুদুল আমীনের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪২০/৫০৬/৩২৩/৩০৯ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ।সংবাদ সম্মেলনের শেষে এ.এস.এম নোমান আলম দেশের মানুষের সামনে সত্য ঘটনা তুলে ধরতে সাংবাদিকদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন ।