জীবন: নিজের প্রতি সদয় থাকুন, সুখ খুঁজে নিন

লেখক: মামুন চৌধুরী
প্রকাশ: ১ বছর আগে

জীবন: একটি উপহার, একটি আনন্দের যাত্রা

UK-তে এসে আমি উপলব্ধি করেছি—আমার কোনো বিশেষ দক্ষতা নেই, কোনো কাজে পারদর্শী নই, সবকিছুতেই যেন অপার্যাপ্ত। তবে এখানেই আমি এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছি: নিজের প্রতি কঠোর হওয়া যাবে না। আমরা প্রায়ই ভাবি, জীবন সবসময় মসৃণ হবে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সমস্যাগুলো স্বাভাবিক, কিছু বিষয় আমাদের জন্য নেতিবাচক হতেই পারে।
সমস্যা যতটা না প্রকৃত, তার চেয়ে বেশি আমরা সেটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে কষ্ট পাই। সমস্যাকে নিজের ভাবনায় গুনতে গুনতে এত বিশাল করে তুলি যে, যন্ত্রণা বাস্তব সমস্যার চেয়েও বেশি হয়ে যায়। অথচ, যদি কোনো সমস্যার সমাধানে আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে, তাহলে সেটার জন্য কাজ করা উচিত; আর যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে সেটাকে মেনে নেওয়াই ভালো। চিন্তার গতিপথ বদলাতে পারলে আমরা অযাচিত যন্ত্রণা থেকে মুক্ত থাকতে পারব। তাই, নিজের প্রতি কঠোর হওয়া যাবে না, বরং নিজেকে সাহায্য করতে হবে।

সবকিছুতেই ইতিবাচকতা খুঁজে নেওয়া

Sussex-এ আমার এক সহপাঠীর সঙ্গে আমার অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে কথা হচ্ছিল। আমি বললাম, “আমার মাত্র ২% কাজ হয়েছে।” সে হেসে উত্তর দিল, “Better than zero percent!” অর্থাৎ, তারা সবকিছুতেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ধরে রাখে।
জীবনে সবকিছু শেখা সম্ভব নয়। কেউ হয়তো ভালো গান গায়, কিন্তু ধর্মীয় জ্ঞান কম। কেউ হয়তো খেলাধুলায় দুর্দান্ত, কিন্তু অন্য বিষয়ে দুর্বল। পৃথিবীতে হাজারো বিষয় রয়েছে, তাই অন্যের সঙ্গে তুলনা করে নিজের সুখকে নষ্ট করা একদম উচিত নয়।
আমাদের শিক্ষকদের সঙ্গে মিশে একটি দারুণ বিষয় শিখেছি—এরা কখনো সরাসরি না বলে না। আমি যদি এমন কোনো মতামত দিই, যা তাদের পছন্দ নয়, তারা তবু বলে, “Yeah, yep, হতে পারে, এটি একটি অপশন হতে পারে।” এরপর যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করবে, কেন অন্যভাবে ভাবলে ভালো হয়। এই সংস্কৃতি মানুষকে ভিন্নমত গ্রহণ করতে এবং নতুন কিছু শেখার সুযোগ করে দেয়।
এটাই আসল শিক্ষা: Diversity is the beauty!

হাসি: সুখের সংক্রমণ

একবার একটি ট্যুর এজেন্সি থেকে ইমেইল পেলাম, যেখানে প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকায় লেখা ছিল: “Please bring a good mood.” আমি অবাক!
আমরা অনেক সময় মুখে গাম্ভীর্য ধরে রাখার চেষ্টা করি, কৃত্রিম অহমিকার দেয়াল তুলি। এতে আমাদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, হাসি হারিয়ে ফেলে। অথচ, হাসি আমাদের সুখের সবচেয়ে সহজ ও শক্তিশালী উপায়।
বিভিন্ন জায়গায় শুনেছি, “হাসি দিতে হবে মেপে মেপে।” কিন্তু এই নিয়ন্ত্রিত আচরণই আমাদের আরও অখুশি করে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে, হাসি সংক্রামক (Happiness is contagious)। আপনি হাসলে অন্যরাও হাসবে, আপনার মন ভালো থাকবে, আশেপাশের পরিবেশও আনন্দময় হবে।
বিদেশে এসে দেখেছি, হয়তো কেউ ইমিগ্র্যান্টদের নিয়ে মনে মনে পক্ষপাতদুষ্ট, তবুও চোখাচোখি হলে তারা হাসবে। এটি হয়ত একধরনের সামাজিক অভ্যাস, কিন্তু এতে মন ভালো হয়। এই সংস্কৃতি মানুষকে সুখী থাকার সহজতম পথ শেখায়—হাসি দিয়ে কথা বলা, অন্যকে সাহায্য করা।

জীবন: সত্যিই একটি উপহার

আমরা না চেয়েই এই পৃথিবীতে এসেছি, না চাইলেও একদিন চলে যাব। জীবন নিয়ে দারুণ একটা কৌতুক আছে:”জীবন নিয়ে যতই কিছু করুন, এখান থেকে জীবিত ফিরতে পারবেন না!”
এটাই বাস্তবতা। আমরা জীবন পেয়েছি উপহার হিসেবে, তাই এটাকে উপভোগ করাই শ্রেয়।
আমরা সবসময় শুনি, “Enjoy the morning, enjoy the evening, enjoy the work, enjoy the food”—কারণ, এই উপভোগের মধ্যেই সুখ লুকিয়ে আছে।
So, finally—Enjoy the life!