নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র করায় খেদ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।শুক্রবার হাসপাতালটি আকস্মিক পরিদর্শন শেষে তিনি বলেছেন, “আমি ১৫-২০ জন রোগীর কাগজ দেখেছি, সব ফটোকপি নিয়েছি। এই সকল ইনভেস্টিগেশন বাইরে থেকে করানো হয়েছে।
“গতকাল একটা ভিডিও বের হয়েছে, কারা কারা এসেছে—ওই নামগুলিও আমার কাছে আছে। ওইটাই দেখে গেলাম। ওই অনিয়মটা দেখে গেলাম, আপনারাও (সাংবাদিকরা) দেখেছেন।“পরবর্তীতে ব্যবস্থা যা নেওয়ার, আমরা দেখব। দোয়া রাইখেন—(অনিয়ম) থাকবে না। হয়তো আমি থাকব, আর না হয় এটা (অনিয়ম) থাকবে— দুইটার একটা হবে।”দেশের স্বাস্থ্যসেবার অনিয়ম প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা একদিনে সব পারব—এটা বলি না, বাট যখন যেটা জানব, শক্ত হাতে এটা দমন করব। এবং এখানে যা দেখে গেলাম, জাস্ট ওয়েট ফর অ্যানোদার টোয়েন্টিফোর আওয়ারস হোয়াট আমি অ্যাম গোয়িং টু ডু।
”মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বাইরের সততা, জমজম আরও কী কী ফেরিওয়ালার মতো ব্লাড কালেক্ট করে নেয়। বাইরে থেকে আমার রোগীরা টাকা দিয়া ব্লাড টেস্ট করায়।“…একটা শূন্য ভান্ডার নিয়ে আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছি ফ্যাসিস্টদের পরে। এর পরও আমরা কষ্ট করে টাকা দিচ্ছি, জনগণের টাকাই জনগণের জন্য দিচ্ছি। সেই টাকার সুবিধা জনগণ এখানে পাচ্ছে না। এখানে ডেঙ্গু রোগীদের ব্লাড বাইরে থেকে এসে ফেরিওয়ালার মতন কালেক্ট করে নিয়ে যায় টেস্ট করানোর জন্য।
”এক সাংবাদিক জানতে চান, এ অনিয়মের পেছনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায় আছে কি না?জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “অফকোর্স দায় আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দিনের বেলা ব্লাড নেয়, এটা আমাকে প্রশ্ন করা লাগে? দিনের বেলা বাইরে ফেরিওয়ালার মতো এসে ব্লাড নেয়, এটা দায় থাকবে না মানে? অফকোর্স দে আর রেসপনসিবল ফর দ্যাট।
”মুগদা হাসপাতালের সেবার মান ও বিভিন্ন অনিয়ম সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী আকস্মিক পরিদর্শনে সেখানে যান।সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বাইরে যত জায়গায় যাচ্ছি, আমি মশারি পাচ্ছি ডেঙ্গু রোগীদের। কিন্তু এখানে দেখি নাই বা অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও তেমন কোনো মশারির ব্যবহার করে না। বাট এটা কিন্তু ম্যান্ডেটরি।“এটা আজকে থেকে আরও কঠিনভাবে মনিটর করব। রোগীরাও অনেক সময় নিতে চায় না, বাধ্য করতে হবে মশারি নিতে। কারণ আদারওয়াইজ আমার ভালো রোগীগুলি অসুস্থ হয়ে যাবে। এটা এখানে আপনারা ম্যান্ডেটরি করবেন আজকে থেকে মশারির ব্যবহার।
”মন্ত্রী সাখাওয়াত বলেন, “আরও তিন মাস আগে থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিউরের চাইতে প্রিভেনশনের ওপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা জোর দিয়েছি। এখন সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, আমাদের ডিসি মহোদয়গণ, ইউএনওগণ সমন্বিতভাবে সিভিল সার্জন, ডাক্তারদের নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান আমরা চালাচ্ছি।
“এমনকি আপনারা জানবেন, আমরা বরিশালে পিরোজপুর জেলায় সুপারি গাছ—তারা বয়ষ্ক সুপারি গাছ কেটে ফেলে; আধা হাত, এক হাত থেকে যায় গোড়াটা। ওইটার আশ যখন পচে যায়— পানি জমে ওটাতে, লার্ভা হয়। একজন ম্যাজিস্ট্রেট ওখান থেকে রিপোর্ট করার পরে সমস্ত গাছ আমরা কাটিয়েছি।“বাট আমাদের দেশটা খানাখন্দতে ভর্তি। যত্রতত্র লার্ভার সৃষ্টি হয়। সে লার্ভা মারার জন্য পয়সা খরচ করে ট্যাবলেট ইউজ করতেছি। সিটি করপোরেশন গত তিন মাস যাবত স্প্রে করতেছে মশা মারার জন্য। যেই কারণে মশা এবার একটু লেটলি এসে আমাদেরকে আক্রমণ করেছে।”
