নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঢাকাই চলচ্চিত্রের খলনায়িকা হিসেবে পরিচিত রিনা খান শুধু অভিনয়েই নয়, রাজনীতির মঞ্চেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সাত শতাধিক সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের হৃদয় জয় করেছেন। বিশেষ করে খল চরিত্রে তার শক্তিশালী উপস্থিতি তাকে এনে দিয়েছে বিশেষ স্বীকৃতি।
রিনা খান রাজনীতিতেও সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন সদস্য। তার রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বহুবার তাকে এবং তার পরিবারকে হয়রানি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। এমনকি তার ছেলের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়, যা নিয়ে একাধিকবার গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন তিনি। এসময় তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রাজনীতি ও চলচ্চিত্র—দুই জগতের ভারসাম্য বজায় রাখা।
১৯৭৮ সালে রিনা খান বাংলাদেশের অলিম্পিক সাইক্লিং প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। এ অর্জনের জন্য তাকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানো হয়, যেখানে তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই সাক্ষাতে জিয়াউর রহমান তাকে স্নেহভরে জিজ্ঞেস করেন, “খুকি, তুমি কী চাও?”
রিনা খান তখন বলেন, “আমি সাইক্লিং করি, কিন্তু একটা ভালো সাইকেল চাই।” উত্তরে জিয়াউর রহমান বলেন, “তোমাকে ভালো সাইকেল দেব।” এরপর জাপান থেকে ছয়টি উন্নত মানের সাইকেল আনা হয়, যার একটি উপহার হিসেবে পান রিনা খান।
উল্লেখযোগ্য, ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সোহাগ মিলন সিনেমার মাধ্যমে রিনা খানের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। প্রথম ছবিতেই খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন জয় করেন। পরে তিনি নানা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে তার বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ রাখেন। আজও তিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—দুই মাধ্যমেই সক্রিয়, আর তার উপস্থিতি দর্শকদের মনে রাখে গভীর প্রভাব।
