গাংনীতে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে ভাইরাল সেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা।

লেখক: মামুন অর রশীদ
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

গাংনী উপজেলা প্রতিনিধি:

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা এইচ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভাইরাল হওয়া প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সপ্না খাতুন। সোমবার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তিনি মামলাটি দায়ের করেন।মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, কাজিপুর গ্রামের মৃত আফাজুদ্দিনের ছেলে প্রধান শিক্ষক মো. রাজু আহমেদ ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন সপ্নাকে অফিসে একা ডেকে নেন। সেখানে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার দেহের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন। বাধা দিলে মুখ চেপে ধরে খুনের হুমকি দেন এবং পরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

এরপর থেকে ১০ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে স্কুলের অফিস রুমসহ নানা স্থানে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজু আহমেদ নিয়মিত মোবাইলে ফোন করে অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও যৌন হয়রানি করতেন। বিয়ের নামে প্রতারণা করে তাকে কুষ্টিয়া শহরের এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে দিন ধরে ধর্ষণ করেন। সর্বশেষ ঘটনাতেও বিয়ের কথা বলে স্কুল ছুটির পর অফিসে ডেকে দরজা-জানালা বন্ধ করে বহুবার ধর্ষণ করেন।নিরুপায় হয়ে সপ্না ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৯(১)/১০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। তিনি ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন।স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, অশ্লীল ভিডিও ভাইরালের পর থেকেই রাজু মাস্টারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা চলছে। অপকর্ম ধামাচাপা দিতে তিনি নানা ধরনের অপপ্রচার ছড়িয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

তাঁর শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী মানববন্ধন করেছে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করলেও স্থানীয়দের দাবি, তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।ঘটনা বিষয়ে কথা বলতে রাজু আহমেদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।মামলার আইনজীবী শাহরিয়ার মাহমুদ শাওন জানান, মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করতে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।এ বিষয়ে গাংনী থানার ওসি বানী ইসরাইল বলেন, আদালতের নির্দেশনার কাগজপত্র এখনও থানায় পৌঁছায়নি। আসার পর মামলা রেকর্ড করে তদন্ত শুরু করা হবে এবং আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হবে।—