ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়া নিশ্চিত হলে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত আছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ‘স্বৈরশাসক’ বলে অভিহিত করার পর বিষয়টি সামনে আসে। এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিসি।
জেলেনস্কি বলেন, “যদি আপনারা চান আমি এই পদ থেকে সরে দাঁড়াই, তাহলে আমি প্রস্তুত। যদি ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের শর্ত হয় আমার পদত্যাগ, তাহলেও আমি রাজি।”
ট্রাম্পের মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি জানান, এতে তিনি বিরক্ত নন, তবে একজন স্বৈরশাসক হলে বিরক্ত হতেন। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে ২০১৯ সালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন জেলেনস্কি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া দেশটিতে সামরিক অভিযান চালানোর পর জরুরি অবস্থা জারি করা হয় এবং নির্বাচন স্থগিত করা হয়। তিনি জানান, বর্তমানে তার মূল লক্ষ্য দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কোনো ইচ্ছা তার নেই।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। সম্প্রতি তার প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রাশিয়ার সঙ্গে সৌদি আরবে বৈঠক করেছেন, তবে ইউক্রেনকে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ ছাড়া, ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে জেলেনস্কিকে কটাক্ষ করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা আজ সোমবার কিয়েভে যাচ্ছেন, যেখানে তারা ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও সমর্থন নিয়ে আলোচনা করবেন। এই বৈঠকে ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়টি আলোচনায় উঠবে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি, যদিও এর ফলাফল সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন।
ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টকে ইউক্রেনের অংশীদার হিসেবে দেখতে চান এবং আশা করেন, তিনি কেবল মধ্যস্থতাকারী নন, বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
সম্প্রতি ট্রাম্প ইউক্রেনকে একটি খনিজ সরবরাহ চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন, যার মাধ্যমে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে বিরল খনিজ সম্পদ সরবরাহ করবে। এ বিষয়ে জেলেনস্কি জানান, আলোচনা ইতিমধ্যে এগিয়েছে এবং ইউক্রেন এই চুক্তিতে আগ্রহী। তবে তিনি চান, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের নিশ্চয়তা দিক।
