দুই কোটি টাকার চুক্তিতে অন্যের কনটেন্ট বানাবেন রিপন মিয়া!

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

মূল কথা হলো—আমাদের নেত্রকোণার মানুষজন ভালো কিছু সহজে মেনে নিতে পারে না। একজন একটু উপরে উঠলেই আরেকজন তাকে টেনে নিচে নামানোর চেষ্টা করে। এলাকার আসল চেহারা এলাকার মধ্যেই থাকলে বোঝা যায়—ক্ষেতের পাশে ক্ষেত থাকলে যেমন বোঝা যায় কী ঘটছে।এই কথাগুলোই বলছিলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া, সংবাদ সারাক্ষণের প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায়। তিনি জানান, জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর থেকে নানা ধরনের হুমকি ও তার পরিবারকে হেনস্তার অভিযোগে তিনি মানসিক চাপে আছেন।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের নিজের ভেরিফায়েড পেজে একটি পোস্ট দেন। পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে, ছড়িয়ে পড়ে টেলিভিশন, অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়।অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে সাংবাদিকরা যান নেত্রকোণা সদরের দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নে রিপনের বাড়িতে। সেখানেই বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে তিনি কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ তোলার কারণ জানতে চাইলে রিপন বলেন,“মূলত ভাইরাল হওয়ার পর যখন টাকা-পয়সা আসা শুরু হয়, তখন থেকেই সমস্যার শুরু। একজন আমাকে দুই কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছিল তার সঙ্গে কনটেন্ট বানানোর জন্য। আমি প্রথমে রাজি হইনি—তারপর থেকেই হুমকি আসা শুরু হয়।

”তিনি আরও জানান, “অনেকেই এখন কনটেন্ট বানাচ্ছে, কিন্তু আমার মতো জনপ্রিয় হতে পারছে না। ওরাই এই ঝামেলার মূল কারণ। তবে এখন আমি রাজি হয়েছি—দুই কোটি টাকা ক্যাশে এক বছরের জন্য চুক্তি হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আমি তাদের সঙ্গে কাজ করব।”প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, “এই বিষয় নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে পারব না। আমার ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমি তো পড়াশোনা জানি না, ‘ক’ লিখতে গিয়ে কলম ভেঙে ফেলি। তাহলে আমি এই পোস্টটা কীভাবে করব, সেটাও ভেবে দেখেন।”টেলিভিশনের সাংবাদিকদের সঙ্গে বিতর্ক নিয়ে রিপন বলেন, “আমি বাড়িতে না থাকার সময় তারা হঠাৎ এসে ভিডিও করে। চাইলে আমি চ্যানেলের নাম বলতাম, কিন্তু পোস্টে কারও নাম দেইনি।”থানায় অভিযোগ না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি ঝগড়া-বিবাদে বিশ্বাসী না। আজ আছি, কাল নাই। কাউকে অসম্মান করার দরকার নেই। অনলাইনে কনটেন্ট বানাই—এটা স্থায়ী কিছু না। তবে চুক্তি করলেও তারা আমাকে দিয়ে অসামাজিক কিছু করাতে পারবে না।

”শেষে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, “সব কথা মুখে বলা যায় না। কিছু বোঝে নিতে হয়। এখন আমি ব্যস্ত—আসসালামু আলাইকুম।”প্রসঙ্গত, রিপন মিয়া নেত্রকোণা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন কাঠমিস্ত্রি। ২০১৬ সালে তিনি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। তার জনপ্রিয় সংলাপ—“হাই আই এম রিপন ভিডিও” ও “আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব” ভাইরাল হয়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত মুখে পরিণত হন। বর্তমানে তার ফেসবুক পেজে ফলোয়ার ১.৯ মিলিয়ন।