বঙ্গোপসাগরে ডুবো জাহাজের ধাক্কায় ট্রলারডুবি: মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরল ২২ জেলে।

লেখক: মোঃ হোসাইন
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

ভোলা প্রতিনিধি:

সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে ৫ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার, এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস।মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি:মো: হোসেন। ভোলার মনপুরায় বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হলো ২২ জেলে। গভীর সাগরে ডুবো জাহাজের (বড় বাণিজ্যিক জাহাজ) প্রচণ্ড ধাক্কায় তাদের মাছ ধরার ট্রলারটি ডুবে যায়। তবে সৌভাগ্যক্রমে, সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সাথে প্রায় ৫ ঘণ্টা যুদ্ধ করে মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরেছেন তারা।

রবিবার (২৭ জুলাই) ভোর ৬টার দিকে সাগর মোহনার লাল বয়ার পূর্ব-দক্ষিণ পাশে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির মালিক মনপুরার ৪নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা লোকমান হোসেন ঢালী।ডুবে যাওয়া ট্রলারের মাঝি জানান, শনিবার ভোররাতে তারা জনতা বাজার ঘাট থেকে ২২ জন জেলে নিয়ে সাগরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সাগর মোহনায় পৌঁছানোর পথেই একটি বিশাল ডুবো জাহাজের সাথে ধাক্কা লেগে মুহূর্তেই ট্রলারের তলা ফেটে যায় এবং এটি দ্রুত পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। এ সময় ২২ জেলে প্রাণ বাঁচাতে সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

অথৈ সাগরে প্রায় ৫ ঘণ্টা তারা শুধু জীবনের জন্য লড়াই করেছেন।সকাল ১১টার দিকে ঐ এলাকা দিয়ে যাওয়া ‘মজিদ মাঝি’ ও ‘সেকান্দর মাঝি’ নামের দুটি পৃথক ট্রলারের জেলেরা ভাসমান অবস্থায় তাদের দেখতে পান। পরে তারা দ্রুত এগিয়ে এসে ভাসতে থাকা ২২ জেলেকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করেন।ট্রলার মালিকের পক্ষে বিষয়টি নিশ্চিত করে জনতা বাজারের ব্যবসায়ী সাত্তার পাটোয়ারী বলেন, “আল্লাহর অশেষ রহমতে সকল জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে তাদের ট্রলারটি এখনো উদ্ধার করা যায়নি। সেটিকে উদ্ধারের জন্য অন্য একটি ট্রলার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

“এ বিষয়ে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির জানান, “আমাকে মুঠোফোনে একজন বিষয়টি জানিয়েছেন। আমরা জেনেছি যে সকল জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।”তবে মনপুরা কোস্টগার্ডের কন্টিজেন্ট কমান্ডার আলমগীর হোসেন বলেন, “ট্রলারডুবির ঘটনার খবর এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি। উল্লেখিত এলাকাটি আমাদের আওতার বাইরে হলেও আমরা বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছি।”উদ্ধার হওয়া জেলেরা তীরে ফিরে আসার পর তাদের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসায় জেলেরা সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।