হোসেনপুরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, গুরুতর আহত ২।

লেখক: মনসুর আহমেদ
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে শরীফ মিয়া (২৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় তার বড় ভাই ও ভাগ্নে গুরুতর আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের উত্তর গোবিন্দপুর কান্দিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শরীফ ওই গ্রামের মৃত আলীম উদ্দিনের ছেলে। আহতরা হলেন—নিহতের বড় ভাই মাসুদ মিয়া (৪০), তিনি গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং ভাগ্নে উজ্জ্বল মিয়া (৩৫), আব্দুস সালামের ছেলে। ঘটনার পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর  মঙ্গলবার সকালে উত্তেজিত জনতা খুনি মজিবুর রহমানের বসতঘরসহ তিনটি ঘর ও একটি মুদি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

খবর পেয়ে হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় সূত্র জানায়, মাসুদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে লোক পাঠানোর ব্যবসা করে আসছিলেন। একই এলাকার মনজু মিয়ার ছেলে মজিবুর রহমান তার শ্যালককে বিদেশে পাঠানোর জন্য মাসুদের কাছে ৬০ হাজার টাকা অগ্রিম দেন। কিন্তু দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সোমবার সন্ধ্যায় মাসুদের দোকানে এসে তাকে না পেয়ে দোকানের সামনে বসে থাকা শরীফ মিয়ার সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে মজিবুর ধারালো ছুরি দিয়ে শরীফের পেটে আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরবর্তীতে মাসুদ মিয়া ঘটনাস্থলে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। বিষয়টি দেখে এগিয়ে গেলে ভাগ্নে উজ্জ্বল মিয়াকেও আঘাত করে পালিয়ে যায় মজিবুর। স্থানীয়রা গুরুতর আহত মাসুদ ও উজ্জ্বলকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন নিহতের ফুফাতো ভাই ও প্রত্যক্ষদর্শী ফয়েজ উদ্দিন।

হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, “মজিবুর ও মাসুদ মিয়ার মধ্যে বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনও কাউকে আটক করা যায়নি, তবে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ছবি সংযুক্ত:
১. নিহত শরীফ মিয়া (২৭)
২. আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া মজিবুর রহমানের ঘরবাড়ি