বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের (ডিজি) পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ জামিল আহমেদ।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে ‘মুনীর চৌধুরী প্রথম জাতীয় নাট্যোৎসব’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময়ই তিনি পদত্যাগের কথা জানান এবং একাডেমির সচিবের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে তিনি তার পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেন।
লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ জামিল আহমেদ উল্লেখ করেন, শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রমে প্রশাসনিক জটিলতা, অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ, বাজেট সংকোচন, ফাইল গায়েব হয়ে যাওয়া, দুর্নীতিবাজদের অপতৎপরতা এবং দায়িত্ব পালনে বাধার সম্মুখীন হওয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি বলেন, একাডেমির উন্নতির জন্য নীতিগতভাবে কাজ করতে চাইলেও বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো মানা হয়নি, বরং কাজের পরিবেশ আরও জটিল করে তোলা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তিনি একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নাট্যচর্চা ও গবেষণায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নাট্যব্যক্তিত্ব নয়াদিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা থেকে স্নাতক, ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইক থেকে নাটকে স্নাতকোত্তর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমার কাজ ছিল শিল্পকলার উন্নয়ন, কিন্তু যদি আমার হাতে ক্ষমতা না থাকে, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না দেওয়া হয় এবং প্রতিনিয়ত বাধার সম্মুখীন হতে হয়, তাহলে এখানে থেকে লাভ কী?”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নাট্যশিল্পীরা তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তবে তিনি কয়েকটি শর্ত দেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল একাডেমির কার্যক্রমে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ এবং সংস্কৃতি ও শিল্পের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে জানতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
