নিজস্ব প্রতিনিধি:
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৯তম জন্মদিন উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় রাতের আঁধারে কেক কেটে ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে জন্মদিন পালন করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ।রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতেই এই কর্মসূচি পালিত হয় বলে জানা গেছে। এর একটি ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে এবং পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল আলম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পাকুন্দিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আত্মগোপনে থাকা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা একটি অজ্ঞাত স্থানে কেক কেটে, মোমবাতি প্রজ্বলন করে জন্মদিন উদযাপন করে। এসময় তারা “জয় বাংলা”, “শেখ হাসিনা”, “বঙ্গবন্ধু”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয় এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ বিরোধী স্লোগানও তোলে।ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৪৩ সেকেন্ড ও ১ মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায় ১০-১৫ জন নেতা-কর্মী কেক নিয়ে স্লোগান ও মিছিল করছেন। ভিডিওটি রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায় এবং আত্মগোপনে থাকা ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতারা তা নিজেদের প্রোফাইলে শেয়ার করেন।
কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নাজমুল আলমের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দেখা যায় বুরুদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির সুমন সরকার ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বুরুদিয়া ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জিয়াদুল কবির ইয়ানের নেতৃত্বে দোয়া মাহফিল ও জন্মদিন উদযাপন করা হয়।অন্যদিকে চরফরাদী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন নেতা-কর্মী আতসবাজি ফোটানো, কেক কাটা এবং স্লোগানের মাধ্যমে জন্মদিন পালন করে।
এরপর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আত্মগোপনে থাকা নেতারা ভিডিও ও ছবি নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করেন।নিষিদ্ধ ঘোষিত পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল আলম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন—“ধন্যবাদ বুরুদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপার জন্মদিন উপলক্ষে ‘পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ’-এর অন্যতম ইউনিট ‘বুরুদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ’-এর পক্ষ থেকে মাননীয় নেত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় দেশরত্ন শেখ হাসিনা।
”স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের দরগাবাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ সর্বশেষ প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করে বিজয় দিবসের দিন ১৬ ডিসেম্বর। এর পর থেকে দলটি আর প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি করেনি। তবে রাতে দেয়ালে স্লোগান লেখা ও গোপন ঝটিকা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগেও শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে গোপনে কর্মসূচি পালিত হয়েছিল।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাতুল ভূঁইয়া বলেন, “ছাত্রলীগ একটি নিষিদ্ধ সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিতভাবে রাতের আঁধারে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আমি ভিডিওগুলো ফেসবুকে দেখেছি। ঘটনাটি পাকুন্দিয়া উপজেলার। পুলিশের দুর্বল ভূমিকার কারণেই তারা এসবের সুযোগ পাচ্ছে।”কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শরিফুল ইসলাম নিশাদ বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ গোপনে নানা কর্মসূচির নামে ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে পরিকল্পনা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতার কারণেই এসব সম্ভব হচ্ছে। আমরা আশা করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। ছাত্রসমাজ এখনও রাজপথে আছে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থেকেই সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।”কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং তাদের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবুও কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা গোপনে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।—আপনি চাইলে আমি এটিকে ফেসবুক পোস্টের জন্য সংক্ষিপ্ত, ভাইরাল স্টাইলের কনটেন্টে রূপান্তর করতে পারি। করতে চাইবেন?
