ময়মনসিংহে সাবেক ছাত্রনেতাদের নিয়ে জামায়াতের প্রীতি মিলনী

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১ বছর আগে

ময়মনসিংহ মহানগরে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে একটি প্রীতি মিলনী অনুষ্ঠান, যেখানে অংশ নেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সাথী ও সদস্যরা। শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় ময়মনসিংহ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশের জনগণের ওপর কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, একটি কুচক্রী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে যে জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীদের স্বাধীনতা খর্ব করা হবে। কিন্তু ইসলাম কারো ওপর কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার অনুমতি দেয় না বলেই তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা হচ্ছে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মর্যাদার সংরক্ষণ। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করে, তারা কখনোই মানুষের ওপর জুলুম করতে পারে না। জামায়াতের আন্দোলন জনকল্যাণের জন্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির ও ময়মনসিংহ-৪ আসনের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতকে প্রকাশ্যে আসতে দেয়নি, আজ তারা নিজেরাই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কেউ পালিয়ে গেছে, আবার কেউ গা ঢাকা দিয়ে আছে। তিনি দাবি করেন, এখন সাধারণ মানুষ নিজ উদ্যোগে জামায়াতের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে।
এসময় তিনি আরও বলেন, জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে অতীতে বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে, অপপ্রচার চালানো হয়েছে, কিন্তু জনগণ এখন বুঝে গেছে এ সংগঠনের আদর্শ দেশের মানুষের জন্য উপযোগী। তিনি দাবি করেন, জামায়াত-শিবির দুর্নীতি, ধর্ষণ বা কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নয় বলেই জনসমর্থন বাড়ছে।
অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে যে ‘জুলাই বিপ্লব’ হয়েছে, তা রাজনৈতিক নেতৃত্বহীন একটি জনতার উত্থান ছিল। এই বিপ্লবের পর অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি দেশত্যাগ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ‘প্রহসনের বিচার’ বলে অভিহিত করে বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় না রেখে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়েছে।
তিনি এটাও উল্লেখ করেন, এটিএম আজহারুল ইসলামসহ অনেক নেতাকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছিল, যাদের মুক্তি দাবি করছেন তারা এখন দেশের জনগণের সমর্থন পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ছাত্রদের মুখে এখন একটাই কথা—“We want justice”, অর্থাৎ তারা ন্যায়বিচার চায়।
সভাপতির বক্তব্যে কামরুল আহসান বলেন, দেশের সংস্কার তখনই সম্ভব, যখন ব্যক্তি এবং সমাজের সংস্কার হবে। ইসলামী আদর্শই প্রকৃত অর্থে দেশকে পরিবর্তনের পথে নিতে পারে বলেই জামায়াতে ইসলামীর আন্দোলন চলমান রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতারাও অংশগ্রহণ করেন।