দেশের জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীরা নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও কাজের পরিবেশ—সব দিক থেকেই তারা অবহেলিত।
বেতন ও সুযোগ-সুবিধায় বৈষম্য
আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের মাসিক বেতন স্থায়ী কর্মীদের তুলনায় অনেক কম। তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা যেমন, পেনশন, উৎসব ভাতা, বা কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি ভাতা থেকেও বঞ্চিত। অথচ কাজের ধরনের ক্ষেত্রে তাদেরও একই দায়িত্ব পালন করতে হয়, যা ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে তাদের নিয়োগকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ঠিকই সরকারের কাছে থেকে অর্থ বরাদ্দ পান। আবার বছর শেষে এদের চাকরি নবায়নের জন্য এদের কাছে থেকেই মোটা অংকের টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কাজের নিরাপত্তার অভাব
স্থায়ী কর্মীদের মতো আউটসোর্সিং কর্মীদের চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই। যেকোনো সময় তাদের চুক্তি বাতিল হতে পারে। অনেক সময় সামান্য ভুল বা মনোনীত সংস্থার অসুবিধার কারণে কর্মীদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।
তাদেরকে ঠিকমতো ছুটি দেওয়া হয়না এবং তাদেরকে দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মানসিক চাপ ও অবমূল্যায়ন
দীর্ঘ সময় কাজ করার পরও তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি দেয়া হয় না। তারা মানসিক চাপে ভুগছেন, কারণ একদিকে কাজের চাপ এবং অন্যদিকে আর্থিক নিরাপত্তার অভাব তাদের জীবনযাত্রাকে জটিল করে তুলেছে। আবার এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সরকারি কর্মচারীরা তাদের সাথে বিমাতৃসুলভ আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সমাধান কি?
এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীরা তাদের বৈষম্য দূরীকরণের জন্য আন্দোলন করছেন বলে জানা গেছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হতে মুক্ত করে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে সকল আউটসোর্সিং কর্মচারীকে বহাল রেখে চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে এবং স্ব স্ব পদে স্থায়ীকরণের দাবি জানাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ও সিভিল ডিফেন্সের আউটসোর্সিং কর্মচারীরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফায়ার সার্ভিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের চেয়ে সরাসরি স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা উচিত। একইসঙ্গে আউটসোর্সিং কর্মীদের জন্য ন্যূনতম বেতন কাঠামো, ঝুঁকি ভাতা, এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সরকারের উচিত এই বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের কাজের ন্যায্য পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা। তবেই এই সেক্টরে কর্মীদের উৎসাহ এবং দক্ষতা বাড়বে, যা দেশের জরুরি সেবাদান কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
www.sangbadsarakhon. comগাজায় যুদ্ধ বিরতি চুক্তিতে যা থাকছে
