১৩ হাজার ১৭৪ টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করেছে ডিএনসিসি।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১ বছর আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন রোববার (৮ জুন) বিকেল ৩টা পর্যন্ত ডিএনসিসি তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে প্রায় ১৩ হাজার ১৭৪ মেট্রিক টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে পাঠিয়েছে। এই কাজে ১০ হাজারেরও বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন।ঈদের প্রথম দিনের বর্জ্য অপসারণ ও চলমান কার্যক্রমডিএনসিসি জানিয়েছে, ঈদের প্রথম দিনের উৎপন্ন হওয়া কোরবানির বর্জ্য গতকাল রাতেই শতভাগ অপসারণ করা হয়েছে। তবে, রোববার দিনের বেলায় উত্তর সিটি করপোরেশনের কিছু কিছু এলাকায় বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা থেকে কিছুটা দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছিল। তবে বেশিরভাগ এলাকার বর্জ্যই অপসারণ করা হয়েছে।ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ শনিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ বছর কোরবানিতে প্রায় ২০ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হতে পারে বলে তারা অনুমান করছেন। সে অনুযায়ী, ১০ হাজারের বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং প্রয়োজনীয় ট্রাক, পিক-আপ, ভ্যানসহ অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোরবানির প্রথম দিনে প্রায় ৯ হাজার ২০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছিল, যার মধ্যে ৭ হাজার ৮০০ টন বর্জ্য ল্যান্ডফিলে ডাম্পিং করা হয়েছে। এছাড়া, পুরো উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।বিভিন্ন এলাকার চিত্ররোববার দুপুর পর্যন্ত উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ এলাকার বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। তবে কিছু কিছু জায়গায় কোরবানির বর্জ্য পড়ে রয়েছে এবং তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। রাস্তার পাশের ড্রেনে কোরবানির পশুর রক্ত পড়ে থাকায়ও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।বনশ্রীর একটি বাসার দারোয়ান মো. ইদ্রিস আলী জানান, তাদের এখানে মাংস বানাতে দেরি হওয়ায় কিছু বর্জ্য রয়ে গেছে, তবে বেশিরভাগ এলাকার বর্জ্যই অপসারণ করা হয়েছে। তিনি আশা করেন দ্রুত তাদের এলাকার বর্জ্যও পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং দুর্গন্ধ যাতে না ছড়ায় সে জন্য রাতেই ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হয়েছে।রামপুরার জাকের গলির বাসিন্দা মো. আক্কাস অভিযোগ করেন, গতকাল তাদের এলাকা থেকে খুব একটা বর্জ্য অপসারণ করা হয়নি, ফলে সারারাতই দুর্গন্ধ ছিল। তবে সকাল থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ শুরু করেছেন।অন্যদিকে, গুলশান-১ এর বাসিন্দা সাফওয়ান জানান, গুলশানে সাধারণত কোরবানির বর্জ্য পড়ে থাকে না এবং এবারও ঈদের দিনই পরিষ্কার হয়ে গেছে। তবে বিকেল ৩টার দিকে বাড্ডা লিংক রোডে কোরবানির বর্জ্য না থাকলেও, লিংক রোড থেকে গুদারাঘাট পর্যন্ত রাস্তার পাশের ড্রেনে পড়ে থাকা পশুর রক্ত থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল, যা পথচারীদের জন্য অস্বস্তিকর ছিল।ডিএনসিসির ব্যাখ্যাবর্জ্য পড়ে থাকা নিয়ে ডিএনসিসি জানিয়েছে, গত ৭ জুন রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে জানানো হয়েছিল যে ঈদের প্রথম দিনের শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। তবে, এই বিজ্ঞপ্তির পরেও নগরীর অনেক স্থানে পশু কোরবানি করা হয়েছে। এসব স্থান থেকে নতুন উৎপন্ন বর্জ্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা রাতেই সরিয়ে এনে ল্যান্ডফিলে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে রাস্তায় ও এসটিএস-এ জমা রেখেছিলেন। সকালে এসটিএস এবং রাস্তা থেকে এই বর্জ্য অপসারণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ল্যান্ডফিলে নিয়ে যাওয়ার আগেই কিছু স্থানের বর্জ্যের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে ডিএনসিসি উল্লেখ করেছে।ডিএনসিসি আরও জানিয়েছে, তাদের বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। আজ এবং আগামীকালও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, কারণ কোরবানির ঈদে তৃতীয় দিন পর্যন্ত পশু কোরবানি করা হয়। ১০ হাজারের বেশি কর্মী এই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন এবং ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ ঘোষিত সময়ের পূর্বেই সম্পূর্ণ বর্জ্য অপসারণ করে নগরবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর শহর উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।